রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১

জল উপাখ্যান

জলের মাঝেই বসতভিটা
জলের মাঝেই ঘর
জলের মাঝে আসা-যাওয়া
জলেই চরাচর।

জলের সাথে দিন কাটে 
আর জলের সাথেই সন
জলের মাঝে বসে দেখি
জলের সন্তরন।

জলে সবার ছায়া পড়ে
জলের ছায়া কই
ছায়ায় কায়ায় মিলন হবে
সেই আশাতেই রই।

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১

আমার হাওর দর্শন

কোন কোন অপ্রিয় ঘটনার মধ্যেও কিছু প্রিয় মুহূর্ত থেকে যায়। তেমনি একটা মুহূর্ত, বলা যায় অণুঘটনা আমার হাওর দর্শন।

প্রতিদিনকার নিয়ম মত সেইদিনও সকাল সকাল মুখে হাসি নিয়ে অফিসে পৌঁছে গেলাম। কিন্তু বিধাতার মনে হয় আমার হাসিমুখ খুব একটা পছন্দ হলনা, অফিসের বড় ভাইয়ের ডাক পড়ল কিছুক্ষনের মধ্যেই। “মনসুর, তোমাকে তো আজকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে কিছুদিনের জন্য”, “কোথায় ভাইয়া?” “এইতো হবিগঞ্জের পৌরসভা আজমিরীগঞ্জ আর কিশোরগঞ্জের দুইটা পৌরসভায়”। মুখে হ্যাঁ মনে না নিয়ে নিজের সিটে এসে বসলাম। বড়ভাইয়ের উপরে রাগ না ঝাড়তে পেরে মেজাজটা আরও খারাপ হয়ে গেল। 

যাই হোক, আজমিরীগঞ্জ সম্বন্ধে আমার আগে থেকে তেমন কিছুই জানা ছিলনা, সাধারন জ্ঞানের বই মারফত শুধু এইটুকুই জানা ছিল যে, এখানে সুরমা-কুশিয়ারা দুই ধারা একাকার হয়ে গিয়ে মেঘনায় বাকীজীবন সুখে-শান্তিতে কাটিয়ে দিয়েছে।
হঠাৎ মনে পড়ল আমার বন্ধুর বোনজামাই পোস্টিং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে। মাত্র একদিন আগেই কাজের চাপের দোহাই দিয়ে দাদার নবীগঞ্জ যাওয়ার দাওয়াত ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। মনে হল বিধাতা মনে হয় সবাইকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চায়, অহংকারটা শুধু তাঁরই সাজে।

সেই দাদার কাছে গিয়েই উঠলাম নবীগঞ্জে। অদ্ভুত ব্যাপার হল, নবীগঞ্জে যাকেই বলি আজমেরীর কথা, সেই একটা বাঁকা হাসি দেয়, যেন, এইবার বুঝবা বাছাধন কেমন লাগে যাইতে। কথায় কথায় জানতে পারলাম, আজমেরী হচ্ছে বান্দরবান-খাগড়াছড়ির মত পানিশমেন্ট পোস্টিং-এর জন্য কিছুটা বিখ্যাত। এইরকম ভয়াল দিনের প্রতীক্ষায় ঘুমিয়ে পড়লাম। 

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলাম। হবিগঞ্জ থেকে লঞ্চ ছাড়ে, আর মোটামুটি তিন ঘন্টার মধ্যেই আজমেরী পৌঁছে যাওয়া যাবে। তবে লঞ্চ দেখে বুঝলাম এর সাথে শ্যালো নৌকা কথাটা আরও মানানসই। প্রথম নৌকাটা এক্টুর জন্য মিস করায় পরেরটার জন্যে বিরক্তিকর এক ঘন্টার অপেক্ষা। তবে যাত্রীদের হাবভাবে বোঝা গেল এদের জীবন নিয়ে খুব একটা তাড়া নাই। নৌকা যখন ছাড়ল, সূর্য তার সমস্ত আক্রোশ নিয়ে আকাশে রাজত্ব করতে উঠছে। আমি খুব ভালোভাবেই আমার আগামী কয়েক ঘন্টার ভবিষ্যত আঁচ করতে পারছিলাম। 

যথাসময়ের কিছু আগেই নৌকা ছেড়ে দেয়ায় একটু আশ্চর্য লাগল। মনে হল, ঢাকার বাংগালীদের সময় অজ্ঞানের ধারনাটা মনে হয় এখানে খাটেনা। নৌকার মাঝখানে অনেকখানি জায়গা, চাটাই বিছিয়ে সেখানে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার সামনে একটা কাঠ, ছাউনি আর পাটাতনের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, আমার মেরুদন্ডটাকে কাঠের সাথে সমান্তরালে রেখে আমি কাঠের সাথে হেলান দিয়ে বসলাম। যাত্রার প্রথমদিকে নৌকার দুইপাশে শুধু সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি, লাল-শালুকের বাগান কেটে কেটে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম, আমার ভালো লাগার অনুভূতির শুরু এখান থেকেই।
কিছুক্ষন এভাবে চলার পর লাল-শালুকের বাগান পার হয়ে আমরা আস্তে আস্তে মূল হাওরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। মনে হল দুই পাশ থেকে দুই পাড় যেন নিজেদের মধ্যে অভিমান করে দুই পাশে সরে যাচ্ছে, আর মাঝখানে রেখে যাচ্ছে অকূল পারাবার। এই সৌন্দর্যের পারাবারে চোখ মেলে দেখার মত অনেক কিছু পেলাম। ছোট ছোট পাখিগুলো টুপ করে ডুব দিয়ে আবার উড়াল দিয়ে চোখের আড়াল হয়ে যায়। আবার কোন কোন ঝোপ হয়ে উঠেছে পাখিদের সমাবেশের আদর্শ জায়গা। এর মাঝেই আমাদের ভটভটি তার একঘেয়ে ভটভট শব্দ করে হাওরের নিস্তরঙ্গ জলরাশিতে তুলছে অকারন ঢেউ। হয়তো পানির নিচে মাছেরা তাদের কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে সরে যায় নিরাপদ দূরত্বে আর তাদের শোনায় দৈত্য-দানোর গল্প, আগের দিনে যারা আসত ছপছপিয়ে, আর এখন বিকট শব্দে।

কিছুক্ষন এভাবে চলার পর পাড়ের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেল। যেদিকে দেখা যায় সেদিকেই পানি, শুধু দূরে দিগন্তের ক্যানভাসে সবুজ আর কালো রঙের দন্দ্ব আর মিলনের খেলা। প্রায় পৌনে একঘন্টা চলার পর একটা দ্বীপের মত গ্রাম। মনে হল তারা এই জলচর যন্ত্রের অপেক্ষাতেই ছিল। পাড়ের ধারেই ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসল নিঃসঙ্গ এই গ্রামের কিছু মানুষ, তাদের চোখেমুখে এর কোন ছাপই চোখে পড়লনা অথচ শহুরে মানুষগুলো এত মানুষের মাঝে থেকেও কতটা নিঃসঙ্গ। 

ছোট দ্বীপটা পার হয়ে পড়লাম সত্যিকারের হাওরে। হাওর নামটা এসেছে সাগর থেকে। সাগর থেকে সায়র, তার থেকে হাওর। নামের ব্যুৎপত্তিগত যথার্থতা এখানেই ঠাহর করতে পারলাম। চারিদিকে ধূধূ জলাভূমি, কোথাও কূলের কোন চিহ্ণ মাত্র নেই। এরকম জায়গাতেই মনে হয় ময়মনসিংহ গীতিকার নায়করা ঝড়ের রাতে পথ হারিয়ে নিজের প্রেমিকার উদ্দেশ্যে রচনা করে গেছে বিরহের সব অমর কাব্য। মাঝে জেগে থাকা গাছগুলো বোবা প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করে যাচ্ছে মহাকালের আসা যাওয়া। একটা গাছের কংকালের উপর দেখা গেল এক বাজপাখি। একাকী রাজার মত শিকারী চোখ নিয়ে অপেক্ষা করছে তার শিকারের। 

ধীরে ধীরে দৃষ্টিসীমায় ফুটে উঠল স্বপ্নের মত এক গ্রামের ছবি। দ্বীপের ঠিক মাঝখানটায় একটা ছোট্ট কুড়েঘর, তীরের কাছে একটা অশ্বত্থবুড়ো, তার নিচে ছোট্ট একটা মন্দির, যেন ঈশ্বর পরম শান্তিতে সেখানে ঘুমিয়ে আছে। রাজহাঁস পাতিহাঁস সব একসাথে ঝপ ঝপ করে নেমে নিঃশব্দে সাঁতার দিচ্ছে। তাদের মাঝে এক জোড়া হংস-হংসী দেখে মনে পড়ল নজরুলের গান, “মোরা আর জনমে হংসমিথুন ছিলাম”। এমনই স্বপ্নাতুর অনুভূতি আর হাওরের অসীম একাকীত্ব দেখতে দেখতে কখন যে চোখ লেগে এল বুঝলামনা। আজমিরীগঞ্জের ঘাটের কাছাকাছি এসে তন্দ্রা কাটল। দ্রুতই ঢুকতে থাকলাম বাস্তবতায়। শুধু মনে আঁকা থাকল অনেকগুলো একাকীত্বের একক প্রতিচ্ছবি, হাওর।

মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০১১

আঁধারের শিশুরা

আঁধারের শিশুরা আমায় দেখেছে জানি কাল সারারাত
কাল সারারাত আমি তোমায় দেখিনি
আমাকেও দেখিনি আমি আপনার বিষণ্ণ আঁধারে,
অস্তিত্বহীনতার অদ্ভুত অনুভূতি 
ঘিরেছে শুধু পরম আদরে।
আমার কষ্টেরা খেলেছে যেন আঁধারের শিশু,
সময়ের অসীম গহবরে নিয়ে গেছে
স্বাধীনতার পরম আস্বাদ,
আমার কেটেছে শুধু প্রতীক্ষায়,
প্রতীক্ষায় আমার অস্তিত্বের, আমার কষ্টের।

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১১

অপূর্ণতার বিলাসিতা

সাদা কাগজ ও একটি কলম,
লিখছি, কাটছি আবার লিখছি
শব্দের পর শব্দ আসছে
কিন্তু, কোথায় যেন একটা কি নেই।
অর্থের অনর্থের চিন্তা করে করে মিলছেনা কিছুই,
শব্দের সাথে শব্দ, বাক্যের সাথে বাক্য জোড়া দিয়ে
কিছু একটা করার প্রয়াস বার বার হারাচ্ছে তার ছন্দ।
ওরা অভিমান করে
দূরে সরে আছে একে অপরের থেকে
সেই আনন্দে ওরা মুখ টিপে হাসছে ,
নিস্ফল চেষ্টাগুলো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে
ছুটছি কি এক তাগিদে।
তা কি মেলানোর প্রয়াস নাকি ব্যর্থতার ভয়?
শব্দ, বাক্য, ছন্দগুলো হয়ত আছে
নিজেদের মতোই একে অপরের সাথে,
ছুটছি কেবল আমিই
অপূর্ণতার বিলাসিতায়।

বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

রহিম মিয়া ও আমার স্বদেশ

কুঁচকানো চামড়ার নিচে ভেসে ওঠা পাঁজরের হাড়ে
আমি দেখেছি।
দেখেছি রহিম মিয়াকে ঠ্যালাগাড়ির সাথে
টেনে নিতে জীবনের ভার।
দেখেছি আবার ঝলমলে পোশাক আর 
মুখোশের হাসিমুখে ঢেকে যাওয়া তারই স্বরূপ।
তারপর,
 দেখছি আমার স্বদেশ।
দিকে দিকে আলোর ঝলকানি,
দেয়ালে আঁটা সবুজের বিজ্ঞাপন আর
পরিপাটি সড়কে আঁকা বাংলাদেশের মুখোশ।
শুধু দেখার আড়ালে থেকে যায়
  রাতের ফুটপাত, বস্তিতে বস্তিতে ঘুমিয়ে থাকা স্বদেশের মাঝে 
রহিম মিয়ারই প্রতিচ্ছবি।

সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

মানুষ এবং খাঁচা


  খাঁচা মানুষের জন্য অপরিহার্য। আমার এ কথায় অনেকেই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, এ নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমরা যেহেতু এক খাঁচার বাসিন্দা নই, তাই মতের মিল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। যাই হোক লেখার পরবর্তী অংশগুলোতে একমত করার চেষ্টা থাকবে।
  প্রথমেই বলতে হবে খাঁচা বলতে আমি কি বোঝাতে চাইছি। খাঁচা সম্বন্ধে বেশির ভাগ মানুষই বিরূপ ধারনা পোষণ করে থাকেন। আমার মতে খাঁচা হচ্ছে সেইটুকু সীমাবদ্ধতা, যার মধ্যে আমরা আমাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো মিটিয়ে নিতে পারি বা পারব বলে আশা করি। আমরা সবাই কি তবে খাঁচার বাসিন্দা নই? আমাদের স্বাধীনতা আংশিক, কোথাও কোথাও পরাধীনতার অভাবকে আমরা স্বাধীনতা বলে চালিয়ে নিচ্ছি।
  আমরা অনেকেই হয়ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পাখি পড়েছি। এই কবিতার বনের পাখির স্বাধীনতার পরিধি ততটুকুই যতটুকু গেলে সে সময়মত নীড়ে ফিরে আসতে পারবে। সে নিজেই এক বিরাট খাঁচায় বন্দী।
  একমাত্র সেই খাঁচায় বন্দী না, যে স্বাধীন। স্বাধীন মানুষই শুধুমাত্র সব জায়গায় স্বচ্ছন্দে বিচরন করতে পারে। স্বাধীনতা, স্বাধীন মানুষ বললেই আমাদের মনে পড়ে চে গুয়েভারার কথা। আজন্ম বিপ্লবী এক মহামানব। একবার কি চিন্তা করে দেখেছেন, উনাকে যদি কোন ব্যাংকে একজন কেরানীর দায়িত্ব দেয়া হত, উনি কি পারতেন? হয়ত পারতেন না। সবাই পারেনা। তাহলে, উনি ছিলেন বিপ্লবের খাঁচায় বন্দী। সেই তো খাঁচা!
  মানুষ, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন খাঁচায় নিজেকে বন্দী করে রাখে। শৈশবে মা-বাবার ভালবাসার খাঁচা হল সবচেয়ে শান্তির। দিন যতই গড়ায় স্বাধীনতার নেশা তাকে বন্দী করে আরও বড় খাঁচায়। প্রতিনিয়ত সে বন্দী হয় নিত্য নতুন খাঁচায়। নিজের অজান্তেই গড়ে তোলে তার পরম ভালবাসার খাঁচা। স্বাধীনতা যেখানে মূল্যহীণ।
  তাইতো মৃত্যুকে এত ভয়। মৃত্যুই যে পরম স্বাধীনতা.....................

ভূতমামার রাজনীতি


ভূতমামা বলল এসে
রাজনীতিবিদের বেশে
এ কেমন বিপদ বাবা
সবাই বলে মুখোশ নামা
আমি বলি নামলে ওটা
তরা সব পালাবি ব্যাটা
ওরা বলে জানি জানি
তোমার জানে কেমন পানি
তোমার শুধু কথাই সার
তুমি বড় বেড়েছ বাড়
মোদের নিয়ে ছিনিমিনি
তোমার এবার লাগবে শনি
আর কতদিন মুখোশ পড়ে
থাকবে বসে গদির পরে
খুলবো এবার টেনে ওটা
ভাঙব তোমার গদির পা-টা
এইনা বলে ওরা সবাই
ডাক যে দিল কে যাবি আয়
খেয়ে এমন বেজায় তাড়া
পরাণ বুঝি গেল সারা
পড়ি কি মরি করে
কোনমতে এলাম সরে
পণ করেছি এই দেশেতে
আর যাবনা রাজনীতিতে
সত্যি যারা মুখোশ পড়া
এবার তোরা তাদের তাড়া
আমি বাবা উপর থেকে
যাব শুধু মজা দেখে ।

ভাবনা


থাকব আমি থাকবে তুমি
থাকবে সবাই সাথে
থাকবে জগত থাকবে স্মৃতি
চলবে সময় সাথে।

কেমন করে থাকব আমি
কেমন করে থাকবে তুমি
কেমন করে থাকবে সবাই সাথে
কেমন করে থাকবে জগত
কেমন করে থাকবে স্মৃতি
কেমন করে চলবে সময় সাথে।

ভাবছি আমি ভাবছ তুমি
ভাবছে সবাই সাথে
ভাবছেনাতো জগত কিছু
নিচ্ছে শুধুই স্মৃতি পিছু
চাইছেনাতো সময় তবু থামতে।

রাত


সূর্য এখনও দিগন্তে,
কুসুম কুসুম আলোয়
ঘাসের মাথায় ঝিলিক দিচ্ছে
রাতের রেখে যাওয়া কিছু চিহ্ন।
নিভৃতেই বয়ে যাওয়া কফোঁটা অশ্রু
প্রমাণ দিচ্ছে রাতের বেদনার।
রাতের বেদনাকে মাড়িয়ে
হেঁটে যাওয়া ঘাসের পথে,
সূর্যের রক্তিম আলোয় 
অদ্ভুত আঁকিবুকি ঘাসের বুকে।
আমার চোখে শুধু গোধূলী,
আমার কষ্টেরা পাথর,
নিশ্চল পড়ে থাকে বুকের ভিতর।
রাতের কষ্টেরা বয়ে যায় 
ভোরের অশ্রুধারায়,
আবার প্রস্তুত সে
 শুষে নিতে দিনের সবটুকু জ্বলন
তাই, রাতকে বড় ভাগ্যবান মনে হল........।

একটি ছেঁড়া কাগজ

পড়ে ছিল ভিড়ে,
দেখেনি কেউ তা ।
পায়ে পায়ে মাড়িয়ে গেছে সবাই,
অক্লান্ত নিষ্ঠুর পেষনে
কেটে গেছে দীর্ঘ দিন,
রাতের অপেক্ষায় ।
অবশেষে এল রাত,
স্বস্তি তবু নেই;
মাঝে মাঝে ছুটে যাওয়া যন্ত্রগুলো
ছড়িয়ে যায় আতঙ্ক ।
ভোর হয়ে আসে
তার সাথে আসে পাতাকুড়ানির দল;
হাতে হাতে পেয়ে যাওয়া একটি ঠিকানা, 
ডাস্টবিন ।

উল্টাপাল্টা

আকাশ থেকে আনব পেড়ে 
রূপালী চাঁদটাকে,
খাব আমি মজা করে শানিয়ে দাঁতটাকে।
গপাৎ গপাৎ গপাৎ ,
পড়ল মাথায় ঝপাৎ ,
দেখলি ওটা কী?
টাপুর টুপুর বিষ্টি পড়ে
তাও কি দেখনি,
বিষ্টি পড়ে বিষ্টি পড়ে
ভূতের বাড়ি যাব,
যা আছে তা সকল নিয়ে 
পেটটা পুরে খাব ।
ভূতের আবার বাড়ি কোথার
ভূত যে গাছে থাকে,
গাছের ডালে ওটা কি ভাই
ল্যাজ নাড়িয়ে ডাকে,
ওটাও দেখি আমার মতই উলটাপালটা বকে ।

প্রতিচ্ছবি

হেঁটে যাই, চলে যাই সুদূরের পথে
খুঁজে যাই কোন অচেনাকে ।
আলোর মিছিল আছে, 
আরও আছে অন্ধকারের ঘর
তবু সন্ধানে কার ছুটছি অবিরাম ।
আলতো ঘাস, লতা-পাতা,
কনক্রীটের জাল, সব আছে
সবার মাঝে চলে এক অনুসন্ধান,
খুঁজে খুঁজে যাওয়া সবার মাঝে
আমারই প্রতিচ্ছবি ।

অবিরাম স্বাধীনতার আক্ষেপ

কার অনিমেষ চোখের ধারা
করছে নিঃশেষ পৃথিবীর সব পঙ্কিলতা,
ধুয়ে নিয়ে যায় জমে থাকা অতীতের 
কত কত অভিলাষ,
ঝরে যাওয়া পাতার স্রোতে 
ভেসে যায় একান্ত আপনার
শেষ কোন অনুযোগ ।
ভালবাসার শেষ কোন কথা 
লেখা থাকে, ভেসে যায়,
শুধু আপনার বেগে,
বর্ষার অবিরাম জলের ধারায় 
খোঁজে নতুন কোন ঠিকানা
নতুন কোন পথে ভাসবে আবার 
অজানার নেশায় ।
যে পাতা থেকে যায় নিরাপদে,
বেঁচে যাওয়ার আনন্দে মিশে থাকে
অদৃশ্য বিষাদের সুর, অবিরাম স্বাধীনতার আক্ষেপ ।
মুক্তির অবিরাম স্বাদ, সে শুধু অজানায় ।
তবু বৃষ্টির অবিরাম স্রোত 
কখনো থামে, কখনো আসে আবার,
কারো কথা চলে যায়, কারো আসে নতুন অনুযোগ,
বিদ্যুৎ চমকের মাঝে থাকে সে,
দিয়ে যায়, নতুন জীবনের আভাস ।

বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১১

উপসংহার

কোথা থেকে কোথায় যে নিয়ে চলে যায়
কোন ভবিষ্যতে জানে ধেয়ে যায়,
কেন এই জীবন যে যেতে যেতে হায়
অতীতের বাক্সেতে বাধা পড়ে যায়।

ধূলো পড়া বাক্সেতে কি থাকে আর
ফেলে আসা জীবনের রেখে আসা ভার,
ধূলোগুলো সরিয়ে দেখি বার বার
সূচনাতে লিখে আসা উপসংহার।

অনুভূতির গভী্রতা

বাস নাম্বার ছত্রিশ,
আজিমপুর থেকে উঠে 
বেছে নিলাম পছন্দের সিট।
একে একে যাত্রীরা উঠছে,
তার মাঝে হঠাৎ দৃষ্টির নিবন্ধন,
সৃষ্টিকর্তার দেয়া সহজাত অভ্যাসে নিয়ন্ত্রিত হতে লাগল চোখগুলো
ফিরিয়ে নিলাম দৃষ্টি
দেখতে লাগলাম ঢাকার বিকেল,
শেষ বিকেলের আকাশে মেঘ,
যেন এখনি ডুকরে উঠবে পুরো প্রকৃতি
হয়ত এই সময়টায় অনুভূতি ঠেকে গভীরতার অতলে।
হঠাৎ সামান্য কোলাহল
ফিরে দেখি এক বৃদ্ধ
গায়ের ছেড়া সার্টে ঝরে পড়ছে সাহায্যের আবেদন।
ঘর ফিরতি বিরক্ত জনতা 
বিধিয়ে যাচ্ছে শব্দের শেল,
"নামায় দাও ওরে, এইগুলা সব ভন্ডামি"
বৃদ্ধের চোখ ছুঁয়ে গেল তার শার্টের কোন
হয়ত ছুয়ে গেল সবার মনকেও।
"চাচা নেন",
হাতে হাতে শোধ হয়ে গেল কিছু মনুষ্যত্বের ঋণ।
নেমে গেল সে, নিস্তব্ধ কিছুক্ষন
শুধু গাড়ির বিকট হর্ন আর রাস্তার কোলাহল;
হয়ত অনুভুতির গভীরতায় সবাই খুঁজছে
হারিয়ে যাওয়া কোন এক অনুভূতি।