শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৫

অভাব



যখন আমি একা,
নিঃসঙ্গ, নিস্তব্ধ চারিদিক,
খুব ইচ্ছে হয় কাছে পেতে সবাইকে,
খুব ইচ্ছে হয় আঁকড়ে ধরি প্রতিটা মানুষ,
মানুষের প্রতিটা নিঃশ্বাস, প্রতিটা কথা, প্রতিটা আঘাত,
খুব বেশি কাছে পেতে ইচ্ছা হয় কোলাহলটাকে।

আবার যখন থাকি মানুষের মাঝে,
চারিদিকে শুধুই কোলাহল,
কখনও হাসি, কখনও কান্না, কখনও আবার অদ্ভুত নির্লিপ্ততা,
এই সবকিছুই আমাকে ঠেলে দিতে চায় দূরে,
অনেকটা দূরে, তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে,
অদ্ভুত কোন এক খোলা প্রান্তরে,
যেখানে থাকি শুধু আমি আর আমার নিঃসঙ্গতা।
খুব বেশি কাছে পেতে ইচ্ছে করে নিজেকে।

ইদানীং সময়টা বড় অদ্ভুত,
বড় বেশি অন্যরকম কাটে,
বড় বেশি ঈশ্বরহীনতায় কাটে প্রতিটা মূহুর্ত।।

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৫

ছবির ছবি



তোমার ছবি আমার হলো,
আমার ছবি তোমার।
ছবির খেলায় মেতেছে সব,
কতই ছবির বাহার।

আমিই ছবি, তুমিই ছবি,
সবাই ছবির কবি।
কবির কাছে ছবিই ধাঁধাঁ,
কবিই আবার ছবি।

মুখও ছবি, মুখোশ ছবি,
কথার ছবি এঁকে,
মুখের মুখোশ এঁকে এঁকে,
কথায় তাকে দ্যাখে।

কথা ছবি, ভাষা ছবি,
ব্যথার ছবি আছে,
সুখচ্ছবির চাবি আছে
ব্যথার ছবির কাছে।

ছবির ঘরে ঘরের ছবি,
কোথায় ছবি আঁকে,
ছবিহীনের ছবি খুঁজি
ছবির ঘরে থেকে।

শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৪

যে ছবিটা আঁকা হয়নি বলে



অপূর্ব অপুর্ব বলে চিৎকার করে উঠল মঞ্জরি,
অপুর্ব আকাশ, অপুর্ব তার রঙ, অপুর্ব জমিন আর তার মাঝে
অপুর্ব সেই মেয়ে, ঠিক যেন আমারই প্রতিচ্ছবি।
হঠাৎ চোখ মেলে দেখে আকাশ, বিছানার পাশে তার রঙ তুলি,
সাদা ক্যানভাস, সবকিছু কেমন জানি প্রচন্ড রকম গোছানো।
কই, কোথাও তো কোন রঙের আঁচড় পর্যন্ত নেই,
তবে কি স্বপ্ন, ছবিটা তবে স্বপ্নই রয়ে গেল।
কতবার স্বপ্ন দেখে জেগে উঠেছে,
কখনও কুয়াশার মাঝে খোলা পায়ের নুপুর,
কখনও নদীর ধারের জল, কখনও আবার ড্রইংরুমের সোফায়,
মঞ্জরি সব জায়গাতেই ছিল, তবু ছবিগুলো আর আঁকা হয়নি,
শুধুই ঘুম ভেঙ্গে গেছে, শুধুই সাদা ক্যানভাস।
ছবিটা আঁকা হয়নি বলে,
মঞ্জরি পাখির সাথে পারলোনা হাসতে,
সাগরে পা ভিজিয়ে হাওয়ার সাথে পারলোনা মিলিয়ে যেতে,
তুলি, রং, পড়ে রইল আগের মতই,
থেকে গেল শুধু সাদা ক্যানভাস।
আকাশের অনেক কাছাকাছি রঙগুলো শুধুই সাদা আর কালো,
শুধুই মেঘ আর বৃষ্টি।

রবিবার, ২০ জুলাই, ২০১৪

উপলব্ধি-১ (পছন্দের আয়না)

আমাদের রেস্টরুমে দুইটা আয়না পাশাপাশি দেয়ালের সাথে সাঁটা
ডানদিকের আয়নাটা সোজা করে রাখা 
আর বামদিকেরটা সামনের দিকে একটু হেলানো।
আমি যখনই একসাথে দুইটার দিকে তাকাই,
দুইটা মানুষ দেখতে পাই।
ডানদিকেরটা একটু ছোট আর বামদিকেরটা থেকে একটু বড়।
সবসময় মনের অজান্তে বামদিকেরটাই বেছে নিই। 
মনে হয় বামদিকেরটা একটু বেশিই আপন।

বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৪

বৃক্ষ-মানব

চোখ কচলানো সকালে
প্রতিদিন জানালাটাকে দেখি।
কখনও আলো, কখনও বৃষ্টি,
কখনও বা কুয়াশায় আবছা।
জানালার বাইরেই গাছেদের আধিভৌতিক কঙ্কালের মেলা,
শীতের অভিশাপে গাছে গাছে দুর্ভিক্ষ।
শীত যায়, বসন্ত আসে,
প্রতিদিন নতুন প্রাণের হাসিতে মুখর হয়ে ওঠে আমার জানালা।
শুধু একটা গাছ,
তার চারপাশে বেড়ে ওঠে ঘাসের কার্পেট, সবুজের আস্তরণ।
তার গায়ে গায়ে বেড়ে ওঠে লতানো পরগাছার জামা,
দিন যায় দিন আসে, রাতে যখন সব নিশ্চুপ,
শুনি নতুনের ফিসফিস হাসির শব্দ, জানালায় শব্দ,
শুধু একটা গাছ, তার কঙ্কালসার শরীরে বেড়ে চলে রঙের বাহার,
বাহারি ফুল আসে, বেগুনী, নীল, লালচে সবুজ, আরও কত।
তবু প্রতিদিন দেখি তার ডালে ডালে শূন্যতা,
শূন্য ডালে তার নতুনের হাহাকার।

এইতো আছি

এইতো আছি, এতেই আছি।
কেমন আছি?
এইতো আছি।
বেঁচেই আছি, এতেই আছি,
তেতেই আছি, যাতেই আছি।
সবাই আছে, যেমন আছে,
আমি আছি, তেমন আছি
এইতো আছি।
রঙ্গিন সাদা, গল্প ফাঁদা
রৌদ্র-গরম বৃষ্টি কাদা,
আমার কথা তোমার কথা
শুনছি তবু, ভুলছি সদা।
খারাপ ভালোয় সাদায় কালোয়
কেমন আছি?
এইতো আছি।

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

স্যুপ

কাঠকয়লায় কার্বন থাকে, অনেক আগুন ধরে তাতে
আচ্ছা মানুষেও তো আগুন ধরে,
পার্থক্যটা তাহলে কোথায়?
আমার দেশে বন জংগল কেটে মানুষ থাকা শুরু করেছে অনেক আগে,
এখন কাঠকয়লার বড়ই অভাব।
গ্যাসের, ডিজেলের যুগে রান্না করতে আর প্রয়োজন হয়না কয়লার,
তবু কাঠকয়লায় রান্নার মজা অন্য কিছুতে কোথায়।
দেশে আবার তাই পুরানো চুলার আমদানি বাড়তি,
আবার সেই কার্বন পোড়ার সুঘ্রান,
অনেক কাঠকয়লা লাগবে তাতে,
পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের চুলা,
তাতে রান্না হবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, স্বাধিকারের স্যুপ।
তাতে চুমুক দিয়ে রাজদরবারের লোকজন বলবে,

আহ কি সুস্বাদুই না হয়েছে।