রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১২

সংখ্যা

নোবেল বিজয়ী ডক্টর আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ
তিন মাসে রেমিটেন্স বৃদ্ধি এক বিলিয়ন
প্রতি বছর বিদেশগামী ছাত্রের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার
তিন বছরে ২১ জন খুনের আসামীর সাজা মওকুফ
দশ বছরে পাঁচশ বাঘ হত্যা
বাংলাদেশের পঁয়ষট্টিতম টেস্ট হার
সাভারে একশ সত্তুর জনের আগুনে পুড়ে মৃত্যু
ইনসিওরেন্স কোম্পানীর কোটি টাকার চিন্তা
চট্টগ্রামে একশ বিশ জনের মৃত্যু
প্রকৌশলীর এক কোটি টাকার ফ্ল্যাট 
তিনশ মানুষের তিনশ পরিবার
আরও এক হাজার মানুষের হাহাকার
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পঞ্চাশ দেশ ভ্রমণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেক পরিবারকে এক লক্ষ টাকা প্রদান
পাহাড়ে ২১ নারী ধর্ষণ
প্রতি বছর হাজার মানুষের 
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু
নাহ! মানুষ না গাছ না টাকা না সমৃদ্ধি না
হাহাকার না কান্না না হাসি না
সাড়ে পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইল 
এখন শুধুই সংখ্যা, শুধুই সংখ্যা।

বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ইচ্ছা

লিখতে ইচ্ছা করছে, কিছু বলতে ইচ্ছা করছে
লেখার ছলে বলার ছলে চলতে ইচ্ছা করছে।
রাত কাটাতেই আসছে নেমে 
অনেকগুলো কল,
এসব যেন আমার কাছে 
নিয়মেরই বল।
নিয়ম করে আসা যাওয়া
নিয়ম করে খাওয়া,
নিয়ম করেই জানার মতো
প্রহসনের ধাওয়া।
এসব নিয়ম ধরেই যেন
চক্রবাকে পড়ে,
জীবন নামের পাখিটাকে
অচল গেল করে।
পাখির ডানার পালকগুলো
যাচ্ছে যেন ঝরে,
স্বপ্নগুলো তাইতো আমার 
আসছেনা আর ফিরে।
আরেকটিবার ঝাপটে ডানা
উড়তে ইচ্ছা করছে,
হারিয়ে গিয়ে কল্পনাতে
ডুবতে ইচ্ছা করছে।

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বিজন বনে


তোমায় আমায় বিজন বনে দেখা,
অনেক মানুষ, তবু অসীম একা ।
কেউবা হাঁটে, কেউবা চড়ে গাড়ি,
আমার শুধু মেঘের উপর বাড়ি ।

তোমায় আমায় বিজন বনে আড়ি,
আমার শুধু মেঘের নিচে বাড়ি ।
কেউবা হাঁটে কেউবা চড়ে রথে,
আমি চলি বিজন পথে পথে ।

জানো নাকি, আমার আঙ্গিনায়,
হাওয়া আসে হাওয়া চলে যায় ।
রাতের আঁধার, খোলা জানালায়,
ঐ যে সুদূর, ঐ যে নীলিমায় ।

তুমি আমি বিজন বনে একা,
ঐ যে আঁধার, ঐ যে আলোর রেখা ।

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১২

বাতাস ও বৃষ্টির পায়ের ছাপ

ঝড় এসছিলো কোন এক কালে,
সমস্ত প্রকৃতি জুড়ে রেখেছিলো 
তার আসার চিহ্ন,
নিস্তরঙ্গ, অনাড়ম্বর শুকনো পাতার বনে এনেছিলো
অনিশ্চয়তার আনন্দ।
বৃষ্টি নেমেছিল তারপর,
নেমেছিল অঝোর ধারায়,
সমস্ত কপাল বেয়ে নেমেছিল ঠোঁটের কাছে,
দিয়েছিল অমৃতের স্বাদ।
এখন শুধু এক নিস্তরঙ্গ মাঠ,
মৃদু-মন্দ বাতাস আজও রেখে যায় তার আগমনী চিহ্ন,
অবিরাম বৃষ্টির ফোঁটা এখনও
ছুঁয়ে যায় অধর,
শুধু প্রতিদিনের নিশ্চয়তার সূর্য
কেড়ে নিয়ে যায় 
বাতাস আর বৃষ্টির পায়ের ছাপ।

জেগে জেগে অনেক রাত


আজ আমি অনেক রাত জাগবো।
ভেঙ্গে পড়ার আগে,
অনেক জমে থাকা মূহুর্তের দেয়াল আয়নায়, ক্রমাগত দেখে যাবো,
কখনও স্থির, কখনও জীবন্ত,
একটানা দেখে যাবো অনেক মূহুর্তের ছবি।
আজ আমি অনেক রাত জাগবো,
পড়ে যাবো সারারাত
অনেক মূহুর্তের দেয়ালে, একটা একটা করে অনেক লিখন,
পড়ে যাবো দেয়াল লিখন।
আয়নায় তাকিয়ে পড়ে যাবো এক মনে,
গুনে যাবো অনেক মূহুর্তের দেয়াল।
আজ আমি অনেক রাত জাগবো,
জেগে জেগে দেখে যাবো অনেক না দেখা স্বপ্ন।
সুখের, দুঃখের বা নৈর্ব্যক্তিক কোন কিছু,
 ভাববো অনেক কিছু,
পার করে মূহুর্তের দেয়াল,
প্রহর থেকে প্রহরে সময় চলে যায়,
জেগে জেগে গুনে যাই রাতের প্রহর,
আজ আমি অনেক রাত জাগবো।

রাতকে ভালোবাসি বলে, আজ আমি অনেক রাত জাগবো।

একটা নাইটকুইনের কাছে

একটা নাইটকুইন,
বেড়ে ওঠে প্রতিদিনের আলোছায়ায়,
সকালের জল, বিকালের জল, সারা দিনের তাপ।
মাঝে মাঝে একা থাকে, 
কথা বলে দোয়েল-চড়ুইয়ের সাথে।
আমি শুধু ফিরে আসি বারবার,
ফিরে আসি নাইটকুইনের কাছে।
নাইটকুইন বেড়ে ওঠে, সযত্নে বা অযত্নে,
পৃথিবীর আলোছায়ায়।
ফিরে আসি আমি, দেখি তার ডালের, পাতার
সূর্যের দিকে নিস্ফল যাত্রা।
নাইটকুইন বেড়ে ওঠে নিত্যদিন,
কুঁড়ি আসে পাতার কোলে, 
অনেক যত্নে বেড়ে ওঠে সে পাতার নির্যাসে,
ধীরে ধীরে তাকায় পৃথিবীর দিকে,
মেলে ধরে নিবিড় আবেগে।
আমি ফিরে আসি, দেখি রাতের পরীকে,
সুগন্ধে অনাবিল হয় রাতের বাতাস।
একটি রাতের পরে ঝরে যায়,
নিয়ে যায় অনেক রাতের, দিনের ফসল।
আর পাতা, সেও ঝরে যায়, নিজেকে নিঃশেষ করে,
একটি রাতের তরে।
আমি তবু ফিরে আসি,
ফিরে আসি নতুন পাতার সন্ধানে,
ফিরে আসি বারবার, নাইটকুইনের কাছে।

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১২

আক্ষেপ

কতদিন সকাল দেখিনা, দেখিনা সূর্যের লজ্জা রাঙ্গা মুখ,
ভোরের শিশিরে ভেজাইনা পা,
মাড়াইনা বিকেলের রোদে
ভিজে যাওয়া ঘাসের চাদর।
স্বচ্ছ দীঘির জলে শুনিনা বহুদিন
ঝুঁকে পড়া গাছের সাথে ছায়ার কানাকানি,
পাতার কোমল ছোঁয়া, ফুলের সজল চাহনী
কিছুই দেখিনা।
শুধু তীব্র আলোর ঝলক, রাতের অন্ধকার,
আর আয়নায় নিজের মুখোশ।
গোধূলীর ক্লান্তি রাঙ্গা সূর্য প্রতিদিন ডুবে যায়,
সব গোধূলীরাই বুঝি এভাবে ডুবে যায়, 
সন্ধ্যার গভীর অগভীর অন্ধকারে।

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১২

ওরা কথা বলেনা

ওরা কথা বলেনা,
দীর্ঘ দিনের ক্লান্তির অবসন্নতায়
যখন এলিয়ে দেয় শরীর,
ওরা কথা বলেনা।
রাতের সাথে সাথে যখন মাড়ায় ওরা
ঘরে ফেরা পথ, ওরা কথা বলেনা।
রংচঙ্গে ফিতায় বাঁধা চুলের প্রশংসায়
যখন কেউ হয় মুখর,
ওরা শুধু হাসে।
কারুর লোলুপ দৃষ্টি যখন মেপে শরীরের প্রত্যেক কোণ,
ওরা বোঝে, তবু কথা বলেনা।
মজুরির দাবিতে যখন ওদেরই সহকর্মী
পুড়ে হয় ছাই, ওরা চুপ করে থাকে, ওরা মরে গুমরে।
সমাজের ওপরতলায় যখন ওদেরই রক্তমাংসে গড়া আসর
হয়ে ওঠে উন্মত্ত, ওরা শুধু কাঁদে।
ওরা শুধু কাঁদে, শুধু হাসে,
আর জানিয়ে যায়
চির অবহেলিত, চির পরিচিত কিছু অভিব্যক্তি।


অদৃশ্যের দৃশ্যপট

সবুজ ঘাসের কোনে ছুঁয়ে যাওয়া রোদ্দুরের কণা,
অনন্যতায় ঢেকে যাওয়া মাঠ,
স্বচ্ছ দীঘির ক্যানভাসে আঁকা প্রতিচ্ছবিগুলি
একে একে প্রমাণ রাখে আকাশ, মেঘ, পাখিগুলির অস্তিত্বের,
তবু তারাই প্রমাণ রাখে দীঘির স্বচ্ছতার।
এসব পিছনে রেখে
এক মনে উড়ে চলে যায়,
সোনালী ডানার চিল।
এঁকে রেখে যায় বাতাসের গায়ে তার
ফেলে যাওয়া পথের চিহ্ন।
দৃশ্যের মাঝে ফুটে ওঠা অদৃশ্যের দৃশ্যপট
প্রমাণ দেয় চিলের অস্তিত্বের,
দৃষ্টির অগোচর হয়ে ওঠে দৃশ্যপটের থেকে
অনেক বেশি সত্য।

জঞ্জাল

কখনও প্লাস্টিক, কখনও লোহার কৌটো,
কখনও ফেলে যাওয়া আধখাওয়া বার্গার,
রাতের শেষ নিওন আলোর প্রহরে
একে একে থেকে যাওয়া সব জঞ্জাল
আপনমনে সরিয়ে যায়, শুদ্ধ করে যায়
সূর্যের ঘুমভাঙ্গা চোখে দেখা পৃথিবীকে,
নিষ্কলুষ করে যায় ঘুমন্ত মানুষের ঘুমন্ত শহর।
তারপর, একে একে বেরিয়ে আসে যন্ত্রমানবের দল,
বেরিয়ে পড়ে আরওএকবার, ঝরাতে জঞ্জাল,
সবার কাজের সাথে শুরু হয় তার অবসর।
ঘরে ফেরা পথ জুড়ে থাকা শুদ্ধতা নিয়ে
অশুদ্ধ সে হেঁটে যায়, নিয়ে যায় অনেকটা ক্লান্তি।
কেজো যন্ত্রগুলো এড়িয়ে যায় তাকে,
কি এক অদ্ভুত ঘৃণার দৃষ্টিতে।
এদিকে ভ্রূক্ষেপহীণ সে হেঁটে চলে যায়,
ধীরে ধীরে তার অবসরের ঠিকানায়,
আমাদের চোখে শুধু এক জঞ্জালের ঠিকানায়।